আমাদের সরাইলব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিদিন

আমি ষড়যন্ত্রের শিকার: চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির

Spread the love

 

ধর্ষণ একটি নিন্দনীয় ও ন্যাক্কারজনক কাজ। এটি একটি কঠোর অপরাধ। ধর্ষণের ব্যাপারে কোনো বৈঠক চলেনা। এসবকিছু জেনেও কেনো আমি ধর্ষণের বৈঠক করতে যাবো? আমার ব্যাপারে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা সম্পূর্ণ মিথ্যে। আমার প্রতিপক্ষ আমার মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে ও আমাকে বেকায়দায় ফেলতে এসব মিথ্যাচার ছড়াচ্ছে।

উপরের এই কথাগুলো আফসোস এর সঙ্গে বলছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ হুমায়ুন কবির।

বুধবার (২৭ এপ্রিল) সকালে ইউনিয়ন পরিষদে তার নিজস্ব কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়’কালে এ কথাগুলো বলেন।

এসময় তিনি আরও বলেন, প্রকাশিত ওই সংবাদে আমার বক্তব্য ও বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে। আমি এর তীব্র নিন্দা জানাই। এমনভাবে কোনো বক্তব্য আমি দেয়নি।

এসময় মতবিনিময় সভায় উপস্থিত চুন্টা ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান ও অন্যান্য ইউপি সদস্যরা জানান, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির অত্যন্ত ভদ্র ও ভালো মানুষ। তিনি যেকোনো বৈঠক করলে পরিষদের সকল সদস্যদের ও মুরব্বিদের উপস্থিতিতেই করেন। আমরা কয়েকজন একদিন ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলাম এসময় ধর্ষণের ঘটনায় বৈঠক করার প্রস্তাব নিয়ে কয়েকজন চেয়ারম্যান এর কাছে আসলে চেয়ারম্যান সে প্রস্তাব আমাদের সামনেই ফিরিয়ে দিয়ে ধর্ষণের বিষয় বৈঠকের মাধ্যমে শেষ করার সুযোগ নেই বলে জানিয়ে দেন।

তাই এ বিষয়ে সালিশ করার বিষয়টি শতভাগ মিথ্যা। চেয়ারম্যান সাহেবের বিরুদ্ধে এ ধরণের মিথ্যে অভিযোগ এনে সংবাদ প্রকাশ করায় আমাদের পরিষদের মান সম্মান ক্ষুন্ন হয়েছে। আমরা পরিষদের সকলে এধরনের মিথ্যে সংবাদের তীব্র নিন্দা জানাই।

এদিকে চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার পূর্বে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ধর্ষিতা ওই কিশোরীর মা, মামা এবং চুন্টা গ্রামের বাসিন্দা দুজন বীর মুক্তিযোদ্ধা’সহ কয়েকজন।

ধর্ষিতা ওই কিশোরীর মা সাংবাদিকদের জানান, আমার স্বামী একজন প্রবাসী। আমার বাক প্রতিবন্ধী মেয়ে ধর্ষণের শিকার হলে আমি নিজে বাদী হয়ে সরাইল থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে। বর্তমানে আসামি কারাগারে আছে। পুলিশের সেবায় আমি সন্তষ্ট। চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবিরের বিরুদ্ধে এ বিষয়ে বৈঠক করার যে তথ্য ছড়ানো হয়েছে তা সঠিক নয়। আমার মেয়ের এ বিষয় নিয়ে কোনো ধরণের বৈঠক হয়নি। আসামি পক্ষের অনেকে বিষয়টি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসা করার জন্য আমার কাছে আসলেও আমি বৈঠকে বসতে রাজি হয়নি।

তিনি আরও বলেন, যেহেতু বৈঠক’ই হয়নি তাই চেয়ারম্যানের কাছে যে মীমাংসার ৪ লাখ টাকা রয়েছে এ তথ্যটিও সঠিক নয়। আমার দায়ের করা মামলা এখনো চলমান রয়েছে এবং আসামিও ধর্ষণের কথা আদালতে শিকার করেছে। আমি আদালতের মাধ্যমে এ ঘটনার সন্তোষজনক বিচার পাবো বলে আশাবাদী।

এ ব্যাপারে বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ শাহজাহান মিয়া ও বীর মুক্তিযোদ্ধা এশাদ আলী তাদের বক্তব্যে বলেন, চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির যেকোনো সালিশ করলে আমাদের ছাড়া কখনোই করেনা। তাছাড়া চুন্টা ইউনিয়নে এ ধরণের কোনো বৈঠক হলে আমরা পরে হলেও জানার কথা। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের পর আমরা নিজেরাও খোঁজ খবর নিয়েছি এ ধরণের কোনো বৈঠক হয়নি, বৈঠকের বিষয়টি সম্পূর্ণ গুজব।

মুক্তিযোদ্ধারা ও স্থানীয়রা আরও জানান, প্রায় ৩০ বছর পর রসুলপুর গ্রামের কেউ চেয়ারম্যান হয়েছে। এটা নিয়ে একটি মহল অখুশি প্রথম থেকেই। তারা চেয়ারম্যানকে চাপে ফেলতে ও তার মান সম্মান ক্ষুন্ন করতে এ ধরণের মিথ্যে তথ্য ছড়াচ্ছে।

উল্লেখ্য, গত মার্চ মাসের ২ তারিখে চুন্টা ইউনিয়নের ১৭ বছরের এক বাক প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের শিকার হয়। এ ঘটনায় তার মা বাদী হয়ে ওই দিন রাতেই থানায় একটি মামলা করলে পুলিশ মামলার একমাত্র আসামি আদু মিয়া (৩৫) নামে এক ব্যক্তিকে বাড়ি থেকে গ্রেপ্তার করে। পরবর্তীতে আদালতে আসামি আদু ধর্ষণের কথা স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।

এ ঘটনায় মামলা চলমান থাকলেও গত ২২ এপ্রিল দেশের শীর্ষস্থানী একটি জাতীয় দৈনিকে ‘সরাইলে ৪ লাখ টাকায় প্রতিবন্ধী কিশোরী ধর্ষণের ঘটনা মীমাংসা’ শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত ওই সংবাদে ইউপি চেয়ারম্যান বৈঠকের মাধ্যমে ধর্ষণের বিষয়টি ৪ লাখ টাকায় মীমাংসা করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয় হয়। এছাড়াও বৈঠকের বিষয়টি চেয়ারম্যান স্বীকার করেছে বলেও সংবাদটিতে উল্লেখ করা হয়।

তবে সংবাদটি প্রকাশ করার পর তাৎক্ষনিক সংবাদে উল্লেখিত তথ্য মিথ্যে ও তার বক্তব্য বিকৃত করে প্রচার করা হয়েছে বলে দাবি করে গণমাধ্যমে প্রতিবাদ জানান চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির।

(পুবের আলো/ইফরান)

সম্পরকিত প্রবন্ধ

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Back to top button