ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিদিন

আ’লীগের মনোনয়ন পাওয়া দুইজন চার্জশিটভুক্ত আসামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলায় মন্দির ভাঙচুর মামলার চার্জশিটভুক্ত দুই আসামি ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন।

এদিকে তাদের মনোনয়ন বাতিল করতে কেন্দ্রে চিঠি পাঠিয়েছে জেলা আওয়ামী লীগ।

মঙ্গলবার (১২ অক্টোবর) রাতে আওয়ামী লীগ থেকে ১৩ চেয়ারম্যান প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হয়। আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রাপ্তরা হলেন- গুনিয়াউক ইউনিয়নে জিতু মিয়া, ভলাকুট ইউনিয়নে রুবেল মিয়া, গোকর্ণ ইউনিয়নে ছোয়াব আহমেদ হৃতুল, হরিপুর ইউনিয়নে দেওয়ান আতিকুর রহমান আখি, কুন্ডা ইউনিয়নে মো. ওয়াছ আলী, পূর্বভাগ ইউনিয়নে মো. আক্তার মিয়া, বুড়িশ্বর ইউনিয়নে এটিএম মোজাম্মেল হক সরকার, ধরমন্ডল ইউনিয়নে মো. বাহার উদ্দিন চৌধুরী, চাপড়তলা ইউনিয়নে মনসুর আলী ভূইয়া, চাতলপাড় ইউনিয়নে শেখ আব্দুল আহাদ, ফান্দাউক ইউনিয়নে ফারুকুজ্জামান ফারুক, গোয়ালনগর ইউনিয়নে মো. কিরন মিয়া ও নাসিরনগর ইউনিয়নে মো. আবুল হাশেম।

এদের মধ্যে নাসিরনগর সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাশেম ও হরিপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান ২০১৬ সালের আলোচিত নাসিরনগরে মন্দির ভাঙচুর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি।

২০১৬ সালের ৩০ অক্টোবর ফেসবুকে গুজব রটিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগরে হিন্দু সম্প্রদায়ের অন্তত ১০টি মন্দিরসহ শতাধিক বাড়িঘর ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এ ঘটনায় নাসিরনগর গৌরমন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মল চৌধুরী বাদী হয়ে দুই থেকে আড়াই হাজার অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করেন।

তদন্ত শেষে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. শওকত হোসেন ২০১৭ সালের ১০ ডিসেম্বর ২২৮ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে চার্জশিট জমা দেন। চার্জশিটে ২২৮ আসামির মধ্যে নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-প্রচার সম্পাদক মো. আবুল হাসেম এবং হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমানের নামও উল্লেখ করা হয়। উভয়েই বর্তমানে জামিনে রয়েছেন।

এদিকে জেলা আওয়ামী লীগের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, এ নিয়ে তৃণমূল পর্যায়ে তীব্র অসন্তোষ বিরাজ করায় আলোচিত দুই প্রার্থীর বিষয়ে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের মনোনয়ন বোর্ডকে অবহিত করা হয়েছিল। এতে তারা যে মন্দির ভাঙচুর মামলার চার্টশিটভুক্ত আসামি সেটিও উল্লেখ করা হয়েছিল। তারপরও কীভাবে তারা মনোনয়ন পেলেন সেটি এখন আলোচনার বিষয়।

এ ব্যাপারে জানতে নাসিরনগর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আবুল হাসেমকে মোবাইলফোনে কল দেওয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

হরিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেওয়ান আতিকুর রহমান বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার আমাদের বলেছিলেন, প্রত্যেক চেয়ারম্যান প্রার্থীদের আমলনামার ভিত্তিতে মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি মনে করি, আমার আমলনামার ভিত্তিতে আমাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এজন্য আমি খুশি।

এ ব্যাপারে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আল মামুন সরকার বলেন, আওয়ামী লীগ অসাম্প্রদায়িক চেতনায় বিশ্বাসী। ওই দুই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল করতে কেন্দ্রে চিঠি পাঠানো হয়েছে। কেন্দ্র থেকে এরইমধ্যে মুঠোফোনে আমাদের জানিয়েছে, তাদের মনোনয়ন বাতিল করা হবে। আগামীকালের মধ্যে নতুন প্রার্থী ঘোষণা করা হবে। সূত্রঃ জাগো নিউজ

শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button